গল্পঃ দ্বিতীয় বাসর | পর্বঃ (২৩)---> শেষ পর্ব
নিলয়ের কথাঃ
তৃষার বাবা ফোন দিলেন আমাকে সবার আগে । আমি হলে গিয়ে একটু স্থির হওয়ার চেষ্টা করছি । আমাদের ক্যাম্পাসে মাঝে মধ্যেই এরকম ঝামেলা বাঁধে । এটা নিয়ে আসলে এতো চিন্তার কিছু নেই । কেবল পলিটিক্যাল ছেলেমেয়েদের একটু ঝামেলা হয় । সাধারণ ছেলেমেয়েদের এসবে কোন ঝামেলা হয় না । কেবল যদি গন্ডগোলের মাঝে কেউ পড়ে যায় তখন হয়তো সে একটু ঝামেলায় পড়ে । আজকে যেমন তৃষা পড়ে গিয়েছিলো । এর আগেও বেশ কয়েকবারই ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে । আমরা এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তা করি না স্বাধারণত । কিন্তু আজকের ঘটনাটয় আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না । আমি যখন বললাম আমি এতোদূর দৌড়ে এসেছি তৃষার চোখের পুরো দৃষ্টি কেমন বদলে গেল । আমার দিকে কি অদ্ভুত চোখেই না ও তাকিয়ে ছিল । ওর চোখে আমি একটা তীব্র আবেগ দেখতে পেয়েছিলাম । সেটারই বহিঃপ্রকাশ ঘটলো ওর ঠোঁট দিয়ে । কি গভীরভাবেই না মেয়েটা আমাকে চুমু খেল । আমার ঠোঁটে এখনও যেন ওর ঠোঁটের স্বাদ লেগে আছে ।
এসবকিছুই আমি ভাবছিলাম তখনই তৃষার বাবার ফোন এসে হাজির !
-তৃৃষাকে ফোন দিয়েছিলাম । তোমরা ভাল আছো তো ?
-হ্যা, আমরা ভাল আছি । আপনি চিন্তা করবেন না ।
-আচ্ছা শোন, আমি শুনলাম যে তোমাদের নাকি হল ভ্যাকেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে ?
-হ্যা আছে তো ! এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষ হল খালি করার নির্দেশ দেয় যাতে আর কোন ঝামেলা না হয় !
-তাহলে কি করবে ? আমি তৃষাকে বাসায় আসার কথা বলেছিলাম । ও আসতে চাইছে না ।
-আমিও বলেছিলাম ।
-ওর এক মামার বাসা আছে ঢাকাতে । তুমি ওকে কি ওখানে দিয়ে আসতে পারবে ! তুমি নিজেও সেখানে থেকো কটা দিন !
-আচ্ছা, দেখা যাক । একটা ব্যবস্থা হবেই !
-আচ্ছা, আমাকে জানিও কেমন ! তুমি যদি পারো ওকে বাসাতে নিয়ে আসো । এটাই সবথেকে বেশি ভাল হবে !
-জি জি । আমি দেখছি !
আব্বার ফোন এল হাজির হল সন্ধ্যাবেলা । হল ভ্যাকেন্ট করতে হবে শুনে বললেন,
-তোমরা চলে আসবে ?
বাবা আমাকে চলে আসতে বললে আমাকে সেটাই করতে হবে । তার কথার অবাধ্য আমি হতে পারবো না । তবে বাবা এইবার আমাকে বলেন নি যে চলে আসো । তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে আমরা আসবো কি না । সম্ভবত তৃষার কারণেই । আমি বললাম,
-বাবা, তৃষা আসতে চাইছে না । ওর নাকি কিছু কাজ আছে ঢাকাতে । আর টিউশনিও আছে।
-এতো টাকাপয়সা দিয়ে কি হবে শুনি । আমাদের কারোর তো টাকাপয়সা কম নেই । আছে কি ? এগুলো কাদের জন্য !
আমি বললাম,
-বাবা, আপনি জানেন আমরা কেউই কেবল টাকা পয়সার জন্য টিউশনী করি না । নিজে কিছু আয় করতে পারলে আমাদের ভাল লাগে । আমার যেমন লাগে, তৃষারও তাই ।
আব্বা এই ব্যাপারে আর কিছু বললেন না । জানতে চাইলেন,
-তাহলে কি করবে এখন ? ফয়সালের বাসায় গিয়ে থাকতে পারতে কিন্তু দেখ ওরা ঢাকাতে নেই ।
আমার মাথায় এই ব্যাপারটা এসেছিলো একবার । কিন্তু ভাইয়া ভাবীকে নিয়ে নেপাল গিয়েছে বেড়াতে । একদিক দিয়ে ব্যাপারটা বেশ ভালই হয়েছে । আব্বা বললেন,
-তাহলে কি করবে ? তোমার আযাদ চাচার বাসায় যাবে নাকি ?
-না বাবা ! আমি ব্যবস্থা করে নিবো । আপনি ভাববেন না।
-কি ব্যবস্থা করবে শুনি?
-আমি একটা ছোট বাসা ভাড়া নিয়েছি ।
এই কথা শুনে আব্বা আর কোন কথা বললেন না । সম্ভবত এটা তিনি আশা করেন নি আমার কাছ থেকে । বললেন,
-আচ্ছা । তাহলে তো ভালই । কোন দরকার হলে আমাকে জানাবে । ঠিক আছে !
-জি আচ্ছা !
আমি সন্ধ্যাবেলা হাজির হলাম তৃষার হলের সামনে । দেখলাম অনেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে । সবাই বাসার দিকে যাচ্ছে । ফোন দিতেই তৃষা বের হয়ে এল ব্যাগ হাতে । ওর মুখ খানিকটা গোমড়া হয়ে আছে । আমার দিকে ঠিক তাকালো না । মাথা নিচু করে রাখলো । আমি বললাম,
-এখন কি করবে ?
-আমি জানি না । এতো ঘন ঘন টিউশনি কামাই করলে সেটা হাতছাড়া হয়ে যাবে !
-তোমার না এক মামাবাড়ি আছে কোথায় যেন । তোমার বাবা ফোন করে বললেন । সেখানে যাবে ?
-না যাবো না ! উনাকে আমার পছন্দ না ।
-আচ্ছা তাহলে ?
আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি বলব । এখন কি ওকে বলবো মোহাম্মাদপুরের বাসার কথা । ওকে বলব যে চল আমার সাথে ! তোমার জন্যই আমি একটা ছোট বাসা ভাড়া করে নিয়েছি । আমরা দুইজন থাকবো বলে ! কিন্তু কথাটা বলতে গিয়ে কেমন যেন সংকোচ লাগলো । তৃষা এদিক ওদিক তাকাচ্ছে । আমাকে কিছু বলবে বলবে করেও বলতে পারছে না যেন ।
আমি এবার লম্বা করে একটা দম নিলাম । তারপর বললাম,
-আমি একটা ছোট বাসা ভাড়া নিয়েছি মোহাম্মাদপুরে । একটু ছোট বাসাটা তবে খুব অসুবিধা হবে না ! ওখানে যাবে?
তৃষা আমার দিকে তাকালো । ওর চোখ দুটো কেমন যেন কাঁপছে ।
আমি আবার বললাম,
-যাবা ?
তৃষা কোন জবাব দিল না তবে মাথাটা একটু নাড়ালো কেবল । সে যাবে !
যখন রিক্সা চলতে শুরু করলো অনুভব করলাম তৃষা এক হাতে পায়ের কাছে পড়ে থাকা ব্যাগটাকে ধরে রেখেছে আর অন্য হাত দিয়ে আমার হাত ধরেছে । আমার জীবনে এতো চমৎকার আনন্দ হয়েছে কিনা আমি বলতে পারবো না । সব ঘটনারই ভাল কিছু দিক থাকে । আজকে ক্যাম্পাসে ঝামেলার ভাল দিক সম্ভবত এটাই । আমার কাছে আরও মনে হল যে এর থেকে ভাল কিছু বুঝি আমার জীবনে হতেই পারে না । আজকে প্রথমবারের মত তৃষা আমাকে চুমু খেয়েছে । কি অদ্ভুতভাবে সে আমাকে চুমু খেয়ে ফেলল । আমার কাছে এখনও সব কিছু কেমন যেন স্বপ্নের মতই মনে হচ্ছে । এমন একটা দিন আমার জীবনে আসবে আমি কোনদিন ভাবি নি । অন্তত ও আমাকে এভাবে চুমু খাবে সেটা আমি সত্যিই কোনদিন ভাবতে পারি নি ।
শ্বশুর মশাই ফোন দিলেন একটু পরেই । ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম ।
-তোমরা কি আসছো ?
-জি না আব্বা ! আমরা ঢাকাতেই থাকবো ।
-কোথায় থাকবে ? ওর মামার বাসায় কি ?
-না ।
-তাহলে কোথায় ?
-আসলে আমার একটা বাসা ভাড়া নেওয়া আছে । ওখানেই যাচ্ছি ।
-ও আচ্ছা, আচ্ছা ।
আর কোন প্রশ্ন করলেন না তিনি । ফোন রেখে দিলেন। তার মেয়ে তার মেয়ে জামাইয়ের বাসায় যাচ্ছে । এখানে চিন্তা করার আর কিছু নেই। মেয়ের বাবা এটা বিয়ে আর চিন্তা করে না। তৃষা আমার হাত ধরেই রেখেছে । তবে আমার দিকে তাকিয়ে নেই ও । রাস্তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে । বাতাসে ওর চুলগুলো উড়ছে । আমি সেদিকেই তাকিয়ে থাকলাম। আমার কাছে মনে হল শেষ পর্যন্ত আমি সম্ভবত তৃষাকে পেয়েই গিয়েছি ।
ফ্ল্যাটের দরজা খুলে যখন প্রবেশ করলাম তখন একেবারে রাত নেমে গেছে । একটু পরেই এশার আযান দিবে । আমি ব্যাগ রাখতে রাখতে বললাম,
-তোমার তো ক্ষুধা লেগেছে, তাই না ? আমি কিছু নিয়ে আসি বরং । রান্না বান্নার ব্যাবস্থা আছে যদিও তবে আজকে আর কিছু রান্না করার দরকার নেই । আমি নিচ থেকে খাবার নিয়ে আসি । তোমার আর কিছু লাগবে ?
তৃষা বলল,
-ফুল পাবে আশেপাশে ?
আমি খানিকটা কৌতুহল নিয়ে বললাম,
-ফুল ?
-হ্যা । যদি পাও নিয়ে এসো তো ।
-কি ফুল ?
-যা ইচ্ছে ।
আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ও কেন ফুল আনতে বলল । তবে মোড়ের মাথায় বেশ কিছু ফুল পাওয়া গেল । খাবার নিয়ে আসার সাথে সাথে আমি ব্যাগ ভর্তি করে ফুল কিনে নিয়ে গেলাম । যদিও আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না ।
যখন আবার ঘরের ভেতরে ঢুকলাম তখন আমি খানিকটা চমকে উঠলাম ।
সত্যিই চমকে উঠলাম ।
তৃষা এরই মাঝে গোসল করে নিয়েছে । গোসল সেরে শাড়ি পরেছে সে । শাড়িটার দিকে আমি বেশ কিছুটা সময় তাকিয়ে রইলাম । এই শাড়িটা আমি ওর জন্য কিনে এনেছিলাম । তবে ওকে দিতে পারি নি । শোবার ঘরে ওয়াল আলমারির ভেতরে রেখে দিয়েছিলাম । সেখান থেকেই খুঁজে পেয়েছে সে !
তৃষা ওর চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে এক পাশে পেঁচিয়ে রেখেছে । আমি ওকে অনেকভাবেই দেখেছি তবে আজকের এই রূপে আমি কোনদিন দেখি নি । কিছু সময় কোন কথা বলতে পারলাম না । কোন কথা যেন আমার মুখ দিয়ে বের হল না । আমি কেবল অবাক মুগ্ধ চোখে আমার বউয়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম ।
তৃষা বলল,
-আজকে সারাদিন অনেক ধকল গেছে । গোসল সেরে নাও । আমি খাবার দিচ্ছি । আর শাড়িটা সুন্দর হয়েছে । থ্যাঙ্কিউ !
আমি আরও কিছুটয় সময় কেবল ওকে দেখতেই লাগলাম । ও আমার ঘরটা বেশ গোছগাছ করে ফেলেছে এরই মধ্যে । আমি এখনও বাইরে বসে আছি দেখে ও আবারও বলল,
-কই যাও গোসলে । আমার ক্ষুধা লেগেছে তো ।
আমি চট জলদি গোসল সেরে বেরিয়ে এলাম । তাকিয়ে দেখি বিছানার উপরে একটা আকাশী রংয়ের পাঞ্জাবী রাখা । আমার জন্য রাখা সন্দেহ নেই । আমি যেমন ওর জন্য শাড়ি কিনে নিজের কাছে মজা করে রেখেছিলাম, তৃষাও তেমনিভাবে আমার জন্য পাঞ্জাবী কিনে নিজের কাছে রেখেছিলো । কিছু একটা সংকোচের কারণে সেটা দিতে পারে নি । আজকের এই ঘটনাটা আমাদের মাঝের এই দেওয়ালটা একেবারে ভেঙ্গে দিয়েছে ।
আমি যখন পাঞ্জাবী পরে বের হলাম, দেখি আমাদের ছোট টেবিলটার উপর তৃষা খাবার সাজিয়ে বসেছে । দুইপাশে দুটো মোমবাতি জ্বালিয়েছে । মোম দুটো কোথায় পেল কে জানে । আমি বসতেই তৃষা ঘরের আলো নিভিয়ে দিল । মোমের আলোতে তৃষা আমার মুখোমুখি বসলো । আমি ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছি, তৃষাও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় । তারপর তৃষা বলল,
-আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি । তাই না ?
আমি খানিকটা অবাক হওয়ার ভান করলাম । তারপর বললাম,
-কষ্ট !
-তাই নয় কি ?
-মোটেই না ।
-আমার কারণে তোমার সুন্দর স্বাভাবিক জীবনটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে ।
আমি একটু হেসে বলল,
-তোমার কারণে আমার সুন্দর স্বাভাবিক জীবন আরও সুন্দর হয়ে গেছে ।
তৃষা আমার মুখের কথা শুনে যেন একটু খুশি হল । মুখে হাসি নিয়ে বলল,
-হয়তো আরও সুন্দর হতে পারতো । আমার কারণে হয় নি । তবে আর না। যা হয়ে গেছে তা আমি বদলাতে পারবো না হয়তো তবে .....
-তবে ?
-তবে সামনের দিনগুলো আমাদের চমৎকার হবে, এইটুকু বলতে পারি । তুমি যদি আমাকে আরেকটু হেল্প কর । আমরা দুজন মিলে আমাদের সামনের দিনগুলো সুন্দর করবো । ঠিক আছে ?
-হুম ঠিক আছে ।
তৃষার মুখে আবারও হাসি ফুটলো । খুনসুটি গল্প চলতে চলতে আমরা রাতের খাবার খেলাম। তারপর তৃষা আর আমি মিলে ফুলগুলো দিয়ে আমাদের ঘর সাজালাম । ঘর সাজানো শেষ হলে তৃষা বলল,
-এবার তুমি বাইরে যাবে । আমি এই বাসরঘরে তোমার জন্য অপেক্ষা করবো । আমাদের প্রথম বাসরটা সুন্দর হয় নি । কিন্তু আমি জানি আমাদের এই দ্বিতীয় বাসরটা সুন্দর হবে । অনেক সুন্দর হবে !
কথা গুলো বলেই তৃষা আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আমি ওর বুকের ধুকধুকানিটুকু পরিষ্কার ভাবেই অনুভব করতে পারছিলাম । আমার মনে হয় আমার বুকের স্পন্দনও তৃষা শুনতে পাচ্ছিলো পরিষ্কার । আজকে দুইজনের স্পন্দন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে!
পরিশিষ্ট
আমার পরিচিত ঘরটা হঠাৎ করেই কেমন অপরিচিত লাগছে । ঘরের লাইট অফ করে দেওয়া হয়েছে । সেখানে একটা ডিমলাইট জ্বলছে । দুই পাশের দুই জানালা খোলা । যদিও এখন শীতকাল না তবে আসবে আসবে করছে । একটু ঠান্ডা বাতাস আসছে ঘরে । বড় ঘরটার মেঝেতে বেশ কয়েকটা মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে । বাতাসে সেগুলো কাঁপছে আর পুরো ঘরের চেহারা ক্ষণে ক্ষণেই বদলাচ্ছে । মিউজিক প্লেয়ারে মৃদু লয়ে গান বাজছে । এক কথায় সব মিলিয়ে এর থেকে চমৎকার আর কিছু হতে পারে না ।
আমি বড় ঘর পেরিয়ে শোবার ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম । আবছায়া আলোতে তৃষাকে দেখলাম ঘোমটা মাথায় দিয়ে বিছানার ঠিক মাঝখানে বসে আছে । বাসরঘরটা বলবো না খুব আহামরি সুন্দর হয়েছে কিন্তু দুজন মিলে ফুলগুলো দিয়ে যা পেরেছি তা যথেষ্ট এই রাতের জন্য । আমার কাছে কেবল মনে হল এর থেকে চমৎকার আসলেই এই রাতেরবেলা আর কিছু হতে পারে না ।
আমি ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম খাটের দিকে ।
একটু কি নার্ভাস ?
হয়তো !
আনন্দময় দ্বিধা নিশ্চয়ই তৃষার ভেতরেও কাজ করছে । আমি খাটের উপর বসতেই তৃষা একটু নড়ে উঠলো । আস্তে করে ওর ঘোমটাটা উঠালাম উপরে । মোম আর ডিমলাইটের আলোতে তৃষার লজ্জামিশ্রিত চেহারা দেখে মনে হল এতোদিন ধরে যে দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম সেটা চলে এসেছে । একদম আমার সামনে এসে হাজির । আর কিছুই হয়তো দরকার নেই ।
তৃষা একটু হাসলো । তারপর বলল, বউ পছন্দ হয়েছে তো ?
আমি কেবল তাকিয়েই রইলাম । প্রথমবার যখন আমি বাসরঘরে ঢুকেছিলাম তখন কি ভেবেছিলাম যে আমার জীবনে আসলেই এমন একটা দিন আবারও ঘুরে আসবে । সেদিন যে মেয়েটা আমার থেকে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে ছিল সে আজকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ভালবাসার চোখে, সামনের দিনগুলোর স্বপ্ন নিয়ে !
আমি তৃষার হাত ধরলাম । তারপর বললাম, আমাদের শুরুটা হয়তো ভালভাবে হয় নি কিন্তু শেষটা সবথেকে সুন্দর হবে । সুন্দর হবে এর মাঝের এক সাথে পথ চলাটা ! আই ক্যান গ্যারান্টি !
তৃষা কেবলই হাসলো ! সেই হাসিই বলে দিচ্ছে যে আমার কথা তার বিশ্বাস হয়েছে । আসলেই আমাদের সমানের দিনগুলো সব থেকে সুন্দর হতে যাচ্ছে, যার সূচনা আজকে এখান থেকেই !
..................সমাপ্ত...................

next