গল্পঃ দ্বিতীয় বাসর | পর্বঃ (২২)


তৃষার কথাঃ


আমি ওর বুকের ভেতরের স্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলাম পরিস্কার ! কিছুটা সময় ওকে কেবল শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম । আমার নিজেকে এতো নিরাপদ আর কোনদিন মনে হয় নি । আমার কেবলই মনে হল যে এই ছেলেটা থাকতে আমার আর কোন ভয় নেই । আমার কোন ক্ষতি কেউ করতে পারবে না ।


নিলয় খুব বেশি হাপাচ্ছিলো । ওর পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে । ও কি তাহলে শাহবাগ থেকে দৌড়ে এসেছে ?


আমি বললাম,


-তুমি এতোটা পথ দৌড়ে এসেছো ?


নিলয় বলল,


-হ্যা ।


-শাহবাগ থেকে ?


নিলয় কোন জবাব দিল না ।


আমি ওর চোখের দিকে তাকালাম । তারপর অবাক হয়ে বললাম,


-তুমি মোহাম্মাদপুর থেকে দৌড়ে এসেছো?


নিলয় কিছু সময় আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো । তারপর বলল,


-আমার মাথায় আর কিছু আসছিলো না । বারবার মনে হচ্ছিলো যে তুমি একা আছো ! আর কোন চিন্তা আসে নি আমার মাথাতে ।


আমি ওর দিকে একভাবে তাকিয়েই রইলাম । আমার মাঝে কি হল আমি বলতে পারবো না । জীবনে প্রথমবারের মত আমি কাউকে চুমু খেলাম । কেন যে এতোটা শক্ত করে ওর ঠোঁটে চুমু খেলাম আমি নিজেও জানি না । কেবলই মনে হচ্ছিলো এই ছেলেটাকে এখন চুমু না খেলে আমি মরে যাবো ।


কত সময় ওকে জড়িয়ে ধরেছিলাম আমি নিজেও জানি না । একটা সময় মনে হল চারিদিকটা একেবারে শান্ত হয়ে গেছে । নিলয় বলল,


-তৃষা !


-হুম !


-এখন মনে হচ্ছে বের হওয়া যাবে !


-আচ্ছা !


-তুমি এখানে অপেক্ষা কর ! আমি দেখে আসি বাইরের পরিস্থিতি ।


আমি বললাম,


-না। গেলে দুজন একসাথে যাব !


নিলয় হাসলো । বলল, আচ্ছা চল । আমার হাত ধর । ব্যাগটা হাতে নাও ।


আমি নিলয়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বাইরে বের হয়ে এলাম । দেখলাম অনেকেই নানান বিল্ডিং থেকে বের হয়ে আসছে । সবাই দ্রুত হলের দিকে রওয়ানা দিতে শুরু করলো । নিলয়ও আমাকে নিয়ে হলের দিকে হাটা দিল!


হলের গেটের কাছে এসে বলল,


-শোন, ব্যাগ গুছিয়ে ফেল ।


আমি বললাম,


-কেন ?


-যে গন্ডগোল হয়েছে, সম্ভবত হল ভ্যাকেন্ট দিয়ে দিবে ! আমাদের বাসায় যেতে হবে !


আমি বললাম,


-বাসায় ?


-হ্যা । আর কোন উপায় নেই ।


-আমি বাসায় যাবো না এখন ।


-সেকি ! কেন ?


-বাহ রে । এতো ঘন ঘন বাসায় গেলে চলবে ! আমার এখানে একটা টিউশনি আছে ! তুমি জানো !


নিলয় খানিকটা চিন্তিত কন্ঠে বলল,


-আমারও টিউশনি আছে ।


-আমি যাবো না ।


-আচ্ছা দেখা যাক কি করা যায় !


ও আমাকে রেখেই চিন্তিত মুখে নিজের হলের দিকে হাটা দিল । আমি রুমে এসে যখন স্থির হলাম তখনই আমার মনে হল একটু আগে আমি কি করেছি ! আমি নিলয়কে চুমু খেয়েছি!


কি সর্বনাশের কথা ! কথাটা মনে হতেই পুরো শরীর জুড়ে একটা অচেনা অনুভূতি বয়ে গেল। আমি সত্যিই অন্য কিছু ভাবতে পারলাম না আর । বিছানাতে শুয়ে পড়লাম । শুয়ে শুয়েই ভাবতে লাগলাম একটু আগে কি হয়ে গেল ! কিভাবে হয়ে গেল সবকিছু । মানুষের মনের ভেতরকার এই তীব্র অনুভূতিগুলো এইভাবেই বের হয়ে আসে, কোন অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে । নয়তো ও নিশ্চয়ই এতোদূর থেকে কোনদিন দৌড়ে আসতো না আমার জন্য । নিলয় মনে করেছে আমি বিপদে পড়েছি আর সেটার জন্য এতোদূর থেকে এইভাবে দৌড়ে এসেছে । স্বাভাবিকভাবে এতো সময় ধরে দৌড়ানো কারো পক্ষে সম্ভব না কোন দিন । আর আমিও যদি স্বাভাবিক কোন পরিস্থিতির ভেতরে পড়তাম তাহলে ওকে এইভাবে চুমু নিশ্চয়ই খেতে পারতাম না । কি তীব্রভাবে আমি ওকে চুমু খেলাম ! আমার জীবনের প্রথম চুমু !


নিলয়ের কথাই ঠিক হল । বিকেলের আগেই নির্দেশ এসে হাজির হল । রাত নয়টার ভেতরে হল ভ্যাকেন্টের নির্দেশ দিয়ে দিল হল কর্তৃপক্ষ ! আমি খানিকটা চিন্তায় পড়ে গেলাম । আমার এখন বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না ।


কিন্তু বাসায় না যাওয়া ছাড়া তো আর কোন উপায়ও দেখছি না !

|

|

চলবে....??

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url