গল্পঃ দ্বিতীয় বাসর | পর্বঃ (১৪)
নিলয়ের কথাঃ
মনজুর ফোন করলো ঠিক সকাল ছয়টায় ! আমি আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম । আব্বা বলেছিলো সকালবেলা মনজুর আসবে কিন্তু এতো সকালে আসবে সেটা তো ভাবি নি ।
-ভাইজান এখনও ঘুমাইতাছেন ?
-তুই কই ?
-আপনার হলের সামনে ।
আমি ঘড়ির দিকে আরেকবার তাকালাম । তখনও ছয়টা বাজতে এক মিনিট বাকি আছে । এই বেটার কি কোন কাজ নেই । আমি বললাম,
-এতো সকালে তোকে কে আসতে বলেছে ?
-আমি কিছু জানি না ভাইজান । বড় স্যার আসতে বলেছে । ৫টায় রয়ানা দিছি । রাস্তা ফাঁকা ছিল । আপনে এখনও ঘুমে ?
-তো কি করবো ? এই সময় ঘুম ছাড়া মানুষ কি করে ?
-জলদি উঠেন । স্যার বলছে আটটার ভেতরে বাসায় গিয়া হাজির হতে । বাড়িতে ভুনা খিচুড়ি রান্না হইতেছে, সেইটা গরম গরম খাইতে হবে !
আমার আর ব্রাশ করা হল না । কোনমতে ব্যাগে দুটো জামা কাপড় নিয়ে বের হয়ে এলাম । এক বোতল পানি নিয়ে নিলাম সাথে । পথে ব্রাশ করে নেওয়া যাবে ।
আমি ভেবেছিলাম যে তৃষাও এখনও ঘুমে থাকবে । তাহলে আব্বাকে দেরি করার একটা অযুহাত দেওয়া যাবে । তবে সেটা আর করা গেল না । ওর হলের সামনে যেতেই দেখলাম তৃষা বের হয়ে এল গেট দিয়ে । একটা হুইল চেয়ারে বসে আছে । কার হুইল চেয়ার কে জানে! গতকালকের আপুটা ওকে নিয়ে এল গেটের সামনে !
আমি তৃষার পোশাকের দিকে তাকিয়ে রইলাম। গতকাল মেয়েটা একটা জিন্সের প্যান্ট পরেছিল ! আজকেও সেটা পরে আছে । উপরে অবশ্য কামিজটা আলাদা । গতকাল একটু শর্ট কামিজ পরেছিল । আজকে কুর্তা টাইপের কিছু পরে আছে ।
আব্বা মেয়েদের এই জিন্স পরাটা একদম পছন্দ করেন না । তৃষা এটা পরে গেলে কি বলবে কে জানে ?
অবশ্য ওকে দোষ দেওয়া যাবে না । জিন্সটা বেশ টাইটই । এটা সম্ভবত পায়ের কারণে খুলতে পারে নি ! নয়তো অন্য কিছু পরতো !
যাক কি আর করা !
আমার আগেই দেখলাম মনজুর এগিয়ে গেল তার দিকে । হাতের ব্যাগটা নিয়ে গাড়িতে রাখলো । এবং আবারও সেই সমস্যার সম্মুখীন হলাম আমরা ! ফুটপাথ থেকে বেশ খানিকটা নিচেই হচ্ছে রাস্তাটা । ওখান দিয়ে হুইল চেয়ার নামানো যাবে না । তৃষা আমার দিকে খানিকটা অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে রইলো । এখন আশেপাশে একদমই কেউ নেই । গতদিন যখন এতো মানুষের মাঝে ওকে কোলে নিয়ে এখান দিয়ে উঠতে পেরেছি, আজকেও পারবো ।
তৃষা যখন আমার গলাতে নিজের হাত রেখে ওর দেহের ভার ছেড়ে দিলো, আমার কাছে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হল । এটা কেন এমন হল আমি বুঝলাম না । কেবল বুঝলাম যে আমার বুকের হার্টবিটটা একটু যেন বেড়ে গিয়েছে । আমি ওর পিঠের দিকে হাত দিয়ে ওকে খানিকটা কোলে তুলে নিলাম আবারও । তারপর ওকে একেবারে গাড়ির দরজার কাছে নিয়ে এলাম । মনজুর দরজা খুলেই রেখেছিলো । তৃষাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিলাম ।
গাড়ি যখন চলতে শুরু করেছে তখন প্রায় সাতটা বেজে গেছে । তৃষা জানলার কাঁচ নামিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে । ওর গালটা একটু লাল হয়ে আছে । বুঝতে পারছিলাম যে ও খানিকটা লজ্জা পেয়েছে । আমি ওকে একটু স্বাভাবিক করতেই বললাম,
-পায়ের ব্যথা কেমন এখন ?
তৃষা আমার দিকে না তাকিয়েই বলল,
-এখন একটু ভাল । তবে ব্যথা আছে এখনও !
মনজুর বেশ দ্রুতই গাড়ি চালাচ্ছে । ঢাকা শহর এখনও জেগে ওঠে নি । জেগে ওঠার আগেই শহর পার হতে পারলে বাঁচি ।
ঠিক আটটার সময়ই আমাদের গাড়িটা বাসায় গিয়ে হাজির হল । আব্বা বাসার সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন । আমাদের আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ! এর মাঝে কয়েকবার ফোন দিয়ে খোঁজখবরও নিয়েছেন ।
আমার মনে তখনও তৃষার পরনের জিন্সের প্যান্টের ব্যাপারটা ঘুরতে লাগলো । আব্বার মুখ এখন গম্ভীর না হলেই হল !
|
|
চলবে......
