গল্পঃ ডিয়ার হোম মিনিষ্টার | পর্বঃ (১০)

 


(পরের পর্বে শেষ হবে!)

|

আমি নিকিতার দিকে যত তাকাই ততই অবাক হতে থাকি । মাঝে মাঝে সত্যিই বিশ্বাস হয় না যে এই মেয়ে আমার বউ । সব কিছুর উপর তার কতখানি নিয়ন্ত্রন সেটা ওর সাথে না থাকলে বুঝতে পারবে না কেউ । সব কিছু সে আগে থেকেই জানে । কেবল এই একটু দুরে ছুটে গেছে । তবুও এখন সবটা সামলে নিয়েছে ।


কালো পাজেরো গাড়িটার মাঝের সিটে আমি আর নিকিতা বসে আছি । নীতু গাড়ি চালাচ্ছে শান্ত মুখে । সামনে সিটে হৃদি বসে আছে । তার চোখ সামনের দিকে । সে কিছু নিয়ে ভাবছে । আমি নিকিতার হাতটা ধরলাম । নিকিতা তখনও জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে । সবাই কিছু না কিছু ভাবছে কেবল আমিই চুপচাপ বসে আছি । তিন নারীর মাঝে নিজেকে কেমন যেন বেমানান লাগছে ।


আমি বললাম, আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি ?


-আসল খুনিকে ধরতে!


আমি বললাম, ওটা পুলিশের হাতে ছেড়ে দিলে হত না ?


নিকিতা আমার দিকে তাকালো । তারপর বলল, হ্যা হত ! কিন্তু আমি আবিদের কাচ থেকে সরাসরি ব্যাপারটা জানতে চাই । সে কাজটা কেন করলো সেটা জানতে চাই । তারপর বাকিটা সামলানো যাবে !


আমি আর কোন কথা বললাম না । আবিদের সাহেবের সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই । তার সাথে আমার একবারও দেখা হয় নি আগে । তারপরেও সে আমাকে এই ঝামেলার ভেতরে ফেলেছে ।


আবিদ সাহেবের বাসাতে আমরা একেবারে ভোর বেলা পৌছালাম । সরকারী হাসপাতালের কোয়াটারেই থাকে সে । সকাল বেলাতে ভেবেছিলাম দরজার কলিংবেল চাপতে হবে । সকাল বেলা দরজা খুলে আমাদের দেখে সে খানিকটা অবাকই হবে কিন্তু লক্ষ্য করলাম যে দরজা আগে থেকেই খোলা ।


দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম সাবধানে । নিতু সাবধানে বাড়ির পেছনে চলে গেল । নিকিতাকে পেছনে রেখে আমি ভেতরে ঢুকলাম । আমাদের কারো হাতে কোন অস্ত্র নেই । কেবল নিকিতার কাছে একটা পিস্তল রয়েছে । সেটা সে হাতে নিয়ে রেখেছে । হৃদির কাছের পিস্তলটা নিয়ে নেওয়া হয়েছে ।


আমার মনে হচ্ছিলো এখনই বুঝি আবিদ সাহেব পিস্তল নিয়ে বের হয়ে আসবে । কিন্তু তেমন কিছুই হল না । দেখলাম ড্রয়িং রুমের সোফাতে সে শান্ত ভাবে বসে আছে । সামনেই একটা একটা কফির মগ দেখা যাচ্ছে । হাতে একটা সিগারেট । আমাদের আসতে দেখে মোটেই অবাক হয় নি । সে যেন জানতো আমরা আসছি ।


নিকিতা কিছু না বলে সোফার সামনে বসলো । আবিদের মুখোমুখি । তারপর হাতের পিস্তলটা রাখলো সামনে !


নিকিতা কিছু সময় নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলো আবিদের দিকে । তারপর বলল, হোয়াই ?


আবিদ রায়হান একটু হাসলো । হোয়াই ! লাইক, ইউ ডোন্ট নো !


-তাই বলে অপুকে এই ভাবে বিপদে ফেলবে ?


-তোমাকে পাওয়ার পথে এটাই তো সব থেকে বড় বাঁধা । ও তোমার জীবনে না আসলে আমি আজকে তোমাকে পেয়ে যেতাম !


নিকিতা এবার হাসলো । তারপর বলল, না । কোন দিনই না । আমি কোন দিন তোমাকে ভালবাসি নি । তোমাকে বন্ধুর চোখে দেখেছি আর কিছু না ।


আমি বললাম, এটার জন্য একটা মেয়েকে এইভাবে মেরে ফেললেন ?


আবিদ আমার দিকে তাকালো ! কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিকিতা বলল, ওকে মেরে ফেলার প্লান তোমাদের ছিল না তাই না ?


আবিদ হাসলো ! তারপর বলল, হ্যা আমাদের প্লান ওকে প্রথমে মেরে ফেলার ছিল না !


আমি বললাম, আমাদের ! এর পেছনে আরও কেউ আছে নাকি !


নিকিতা হাসলো । তারপর বলল, হ্যা । এটা একা ওর কাজ না । ও একজন সাধারন সরকারী ডাক্তার । এতো কিছু করার ক্ষমতা ওর নেই । তাই না হৃদি !


আমি অবাক হয়ে হৃদির দিকে তাকালাম । আমি এতো সময় হৃদির দিকে খেয়াল দেই নি । সে কখন যে টেবিলের কাছে চলে এসেছে সেটাও লক্ষ্য করি নি । নিকিতার দিকে হৃদির দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো একভাবে । তারপর বিদ্যুতের বেগে সামনে রাখা পিস্তলটা হাতে নিয়ে নিল । সেটা তাক করলো নিকিতার দিকে ।


আমি তীব্র বিশ্ময়ে অবাক হয়ে গেলাম । এমন কিছু যে হবে আমি ভাবতেও পারি নি । নিকিতাকে শান্তই দেখলাম ।


আমি হৃদির দিকে তাকিয়ে কোন মনে বললাম, তুমি ?


হৃদি কোন কথা বলল না । নিকিতা পেছন থেকে বলল, হ্যা ! সব কিছুর মাস্টার মাইন্ড তোমার এই এক্স প্রেমিকা !


আমি বললাম, ও আমার প্রেমিকা নয় !


-কিন্তু ও তো তোমাকে মনে প্রানে ভালবাসে ! তাই না হৃদি ?


হৃদি এবার মুখ খুলল, হ্যা বাসি ! এবং আপনি আমার কাছ থেকে ওকে নিয়ে গেছে নিজের শক্তি প্রয়োগ করে । এই মন্ত্রীত্বের ক্ষমতা না প্রয়োগ না করতেন কোন দিন আপনি আমার কাছ থেকে জিততে পারতেন না !


নিকিতার দিকে হৃদি পিস্তল তাক করে রেখেছে কিন্তু নিকিতা কি শান্ত ভাবে তাকিয়ে আছে ওর দিকে ! এই মেয়ের নার্ভ দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি ! আমার নিজের বুকের ভেতরে কাঁপাকাপি শুরু হয়ে গেছে অথচ এই মেয়ে কতই না শান্ত ভাবে বসে আছে !


নিকিতা বলল, তোমার প্লান কি ছিল বল দেখি ? আচ্ছা আমি বলি । তোমরা প্লান করেছি যে নওরিনকে ঐ কটেজে নিয়ে যাবে । অপুর ড্রিং করার খুব একটা অভ্যাস নেই । তাই ড্রিং করলে ও নিজেকে ধরে রাখতে পারবে না । সেই সুযোগে ওর সাথে নওরিনকে পাঠাবে । তারপর ছবি কিংবা ভিডিও কিছু করবে ! তারপর সেটা দিয়ে আমাদের মাঝে ফ্রাকশন সৃষ্টি করবে ! তাই তো ?


হৃদি বলল, হ্যা । কিন্তু এই ইডিয়েটটার জন্য সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেল ।


আবিদ বলল, হ্যা তোমাদের মাঝে ঝামেলা হলে সেটা মিটে যেতে পারতো ! তাই ভাবলাম যে এমন কিছু করার দরকার যেন অপুই তোমার জীবন থেকে গায়েব হয়ে যায় !


নিকিতা বলল, প্রথমে হৃদি রাগ করলেও পরে ভেবেছিলো যে অপুকে নিয়ে বর্ডার ক্রস করবে । আর ফিরে আসা হবে না । অপুর সাথেই থাকবে । এই জন্য সব স্থানে সঠিক সময়ে সে হাজির হয়ে যেত । কিন্তু আবিদের মনে অন্য কিছু ছিল । সেই পুলিশকে অপুর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয় । তারপর সেইফ ওকে আবার দেখে অবাক হয়ে যায় ! সেটার খোজও জায়েদের কাছে পৌছে যায় ।


নিকিতা চুপ করে থাকলো কিছু সময় । তারপর বলল, কিন্তু গত রাতে জায়েদকে খবর দিয়েছে হৃদি নিজে । আমাকে ওখানে দেখে হৃদির মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো । তাই না ?


আমি এবার হৃদির দিকে তাকালাম । ও এখনও পিস্তলটা নিকিতার দিকে তাক করে আছে । আমি ওকে বললাম, ওকে হৃদি পিস্তলটা নামিয়ে রাখো । আমরা কথা বলি !


হৃদি আমার দিকে আগুন চোখে তাকিয়ে রইলো । আমি বললাম, তুমি এখান থেকে কোন ভাবেই যেতে পারবে না যদি নিকিতার কিছু হয় !


হৃদি বলল, আমি চাইও না । আমি তো শেষ হই তবে ওকে নিয়েই যাবো ! একটা খুনের শাস্তি ফাঁসি দুইটা খুনের ফাঁসিও ফাসিই !


আমার তখনই মনে হল হৃদি গুলিয়ে চালিয়ে দেব । পিস্তলের লক খুলে ফেলল । তারপর ট্রিগার চাপ দিতে দেখলাম !


আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল । আমার কেবল মনে হল যে নিকিতার দিকে গুলি চলে যাচ্ছে । আমি কোন কিছু আর চিন্তা না করে নিকিতার দিকে ঝাঁপ দিলাম !

|

|

চলবে...?

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url