গল্পঃ ডিয়ার হোম মিনিষ্টার | পর্বঃ (১১)---> শেষ পর্ব
আমি নিজেকে শূন্য আবিস্কার করলাম । উড়ে চলেছি নিকিতাকে লক্ষ্য করে । মাত্র কয়েক মুহুর্ত ! তারপর মাটিতে পড়ে গেলাম । তবে আমার মাথার কিছুটা অংশ টি টেবিলের সাথে লাগল । বেশ ব্যাথা পেলাম !
সাথে সাথেই মনে হল আরে গুলি চলল কই ?
হৃদির দিকে তাকিয়ে দেখি ও আবারও ট্রিগার চাপ দিল তবে কোন কিছুই হল না ।
পিস্তল ফাঁকা ! গুলি নেই । নিকিতার আমার পেছনে । সে আমার কাছে এসে হাটু গেড়ে বসলো । তারপর খানিকটা রাগত স্বরে বলল, ইডিয়েট, ঝাপ দিয়েছো কেন ?
আমি কাঁচুমচু হয়ে বললাম, তোমার দিকে না গুলি করতে যাচ্ছিলো !
নিকিতা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল । আমি দেখতে পেলাম ওর চোখে মুহুর্তের মাঝে সিক্ত হয়ে গেছে । তবে সেটা ও সামলে নিল সাথে সাথেই । বলল, আমি এই রকম শান্ত হয়ে বসে আছি তোমার মাথায় এটা আসে নি যে কেন বসে আছি ! আমি কি এতো গাধা যে গুলি ভর্তি পিস্তল দুজন খুনির সামনে ফেলে রাখবো ! কোথায় ব্যাথা পেয়েছো দেখি ? মাথায় কোথায় লেগেছে ?
তারপর নিকিতা জোরে ডাক দিল ।
"নীতু নীতু" !
দরজা খুলে নীতু ঘরে ঢুকলো সাথে সাথেই । ওর হাতে খোলা পিস্তল ! নীতুর দিকে তাকিয়ে নিকিতা বলল, এই দুজনের দিকে লক্ষ্য রাখো । যদি পালাতে চেষ্টা করে সোজাসুজি গুলি করে দিবে । এই মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে সরাসরি গুলি করেছে ।
নিকিতা আমাকে উঠতে সাহায্য করলো । আমাকে সোফাতে বসিয়ে রেখে ডাইনিং রুমের ফ্রিজের দিকে গেল । আমি তাকিয়ে রইলাম হৃদির দিকে । আমি কোন হৃদিকে চিনতাম আর এই কোন হৃদি !
নিকিতা জানতো যে পিস্তলে গুলি নেই কিন্তু হৃদি তো জানতো না । সে কিভাবে সরাসরি গুলি চালিয়ে দিল !
হৃদির জন্য যে সফট কর্নার ছিল সেটা মুহুর্তের ভেতরে শেষ হয়ে গেল আমার ! নিকিতা ফিরে এল কিছু সময় পরেই । ওর হাতে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পেলাম । বুঝতে কষ্ট হল না যে ওটা একটা আইস ব্যাগ ! সেটা আমার মাথায় চেপে ধরলো ।
তারপর বলল, এরপর যদি আর কোন দিন এমন হিরো গিরি দেখাতে গেছো তো তোমার খবর আছে !
কিছু সময় পার হয়ে গেল । তখনও দাড়িয়েই আছে ! নিকিতা হঠাৎ হৃদির দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার প্রতি আমার একটা অপরাধবোধ ছিল । অপুকে আমি সত্যিই তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ! তবে আজকে সেই অপরাধবোধ শেষ হয়ে গেল । আমাকে তুমি গুলি করেছো এটা আমি মনে রাখবো না তবে এরপর তোমার উপর আমার নজর থাকবে ! কোন অপরাধ করে তুমি আর পার পাবে না ! তুমি চলে যাও !
নীতু বলল, আর ইউ শিওর ম্যাম !
নিকিতা বলল, হ্যা ওকে যেতে দাও নওরিনের খুনের পেছনে ও দায়ী না । ওটা কেবল আবিদ করেছে ।
হৃদি খানিকটা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলো । নিকিতা আবার বলল, তুমি কোন দিন আমার সাথে জিততে পারতে না । কোন দিন না ! দেখলে আমাকে বাঁচানোর জন্য ও কিভাবে ঝাপ দিল ! তুমি যে পরাজিত হয়েছো এই ঘটনা তোমাকে সারা জীবন শান্তি দিবে না । এটাই আমি চাই । নাও গেট লস্ট !
পরিশিষ্টঃ
সাত দিন পর । নিকিতা আজকে দেশে ফিরে আসছে । ঐদিনই আবারও সে ইন্ডিয়া হয়ে আমেরিকা ফিরে গিয়েছে । যাওয়ার আগে সব ব্যবস্থা করেই গেছে । জায়েদ আমান এই সাট দিনের ভেতরেই আসল খুনিকে বের করে ফেলেছে । মানে করতে বাধ্য হয়েছে । আমি পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছিলাম । তবে এখন আসল খুনি ধরা পরার কারনে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । কিভাবে খুন টা করা হয়েছে সেটা পুলিশ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে ।
তবে আশ্চর্য জনক ভাবে হৃদিকে কেসে জড়ানো হয় নি । নিকিতা তার কথা রেখেছে ।
এয়ারপোর্ট থেকে ফেরার পথে আমি নিকিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, ঐদিন তো আর কিছু না বলেই চলে গেলে । এখন কি দয়াকরে সব কিছু বলবে ? কিভাবে সব বুঝলে
নিকিতা বলল, খুবই সহজ ! নওরিন যে প্রতিষ্ঠানের গুড উইল ব্রান্ড এম্বাসেডর সেটাতে হৃদি চাকরি করে । আবিদের পক্ষে কোন ভাবেই নওরিনের সাথে মিলে এই কাজ করা সম্ভব না । পয়েন্ট এক । তারপর হৃদি ঠিকই জানে তোমাকে কোথায় পাওয়া যাবে ! কিভাবে ? সব থেকে বড় পয়েন্ট জায়েদ যখন আমাকে বের হয়ে আসতে বলল । কিভাবে বলল ? আমি দেশে আছি এটা আবির জানে না । আমি ওকে ফোন করে আসতে বলেছিলাম । সেফহাউকে ও যখন তোমার চিকিৎসা করছিলো তখন আমি ওর সামনে আসি নি । তাহলে জায়েদ কিভাবে জানলো ? হৃদি !
আমি খানিকটা বোকার মত বসে রইলাম । এতো সহজ ব্যাপারটা আমার মাথায় আসে নি । এতো বিপদের মাঝে নিকিতার মাথা একেবারে ঠান্ডা ছিল । সে কত কিছু ভেবেছে । আমি বললাম
-আচ্ছা শেষ একটা প্রশ্ন ?
-তোমার শরীরে ট্রেকার কোথায় আছে এটাই তো ?
-হুম ! কোথায় আছে ?
নিকিতা হাসলো । বলল, এটা আমি কোন দিন বলবো না । তোমাকে খুজে বের করতে হবে ।
নিকিতাকে হাসতে দেখে ভাল লাগলো । সেদিন যখন প্রথম নওরিনের লাশ পাওয়া গেল তখন আমি ভেবেছিলাম হয়তো এই বিপদের হাত থেকে আর উদ্ধার পাবো না । নাহ, বউয়ের থেকে আর ভরশা হারানো যাবে না । এমন বউ থাকতে আমার কোন ভয় নাই !
|
|
সমাপ্ত.......
