গল্পঃ ডিয়ার হোম মিনিষ্টার | পর্বঃ (৮)

 


হৃদি আমাকে ছেড়ে দিয়ে নিকিতার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় । নিকিতাকে সে ঠিক চিনতে পারছে না । এভাবে নিকিতা কারো চিনতে পারার কথাও না । বের হওয়ার আগে সে সেই আগের ছদ্মবেশ নিয়েই বের হয়েছে । এমন কি ওর কন্ঠস্বরও খানিকটা অন্য রকম শোনাচ্ছে !


হৃদি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, এই মেয়েটি কে ..... ইজ দ্যাট ইয়োর ওয়াইফ?


আমি কিছু না বলে তাকিয়ে রইলাম । এখানে আসলে কিছু বলার নেই আমার । নিকিতা খুব স্বাভাবিক ভাবে এগিয়ে এল । তারপর নিকিতার সামনে দাড়িয়ে বলল, অপু যে বর্ডার পার করছিলো এটা আর কার জানার কথা ? তুমি ছাড়া আর কারো সাথে ও যোগাযোগ ছিল না । আমাকে বল তাহলে পুলিশ কিভাবে জানলো ?


হৃদির মুখের বিশ্ময় ভাবটা এখনও ঠিক কাটছে না । নিকিতা এখানে যে আমার সাথে থাকতে পারে সেটা কারো জানার কথা না । হৃদিরও জানার কথা না । ও ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না । নিকিতা আবার বলল, ব্যাপারটা কিন্তু এমন না যে অপুকে দেখেছে পুলিশে খবর দিয়েছে । ওর জন্য ওরা অপেক্ষা করছিলো । তার মানে কেউ তাদের জানিয়েছে অপুকে কোথায় পাওয়া যাবে । সব চেয়ে বড় কথা খবর টা লোলাক পুলিশের কাছে যায় নি । গিয়েছে জায়েদ আমানের কাছে ।


হৃদি ততক্ষনে সামলে নিয়েছে । সে বলল, তার মানে আপনি বলতে চান যে আমি ওকে ধরিয়ে দিয়েছি ? আমার লাভ কি এতে ? আমি যদিওকে ধরিয়েই দিতে চাইতাম তাহলে ওকে আমি ঢাকা থেকেই ধরিয়ে দিতে পারতাম ? তাই নয় কি ? বর্ডার ক্রস করতে যাওয়ার আগে আরও দুইদিন ছিল ও আমার সাথে !


নিকিতাকে দেখলাম আমার দিকে একটা বিশেষ দৃষ্টিতে তাকাতে । তবে মুখ দিয়ে কিছু বলল না । আবারও হৃদির দিকে তাকিয়ে বলল, আমি এখনও সেটা জানি না, তবে আই উইল ফাইন্ড আউট ! তখন কাউকে আমি ছাড়বো না । আমার অপুর শরীরে যারা আঘাত করেছে তাদর একজনকেও ছাড়বো না !


আমার অপু শব্দ দুটো এতো জোর দিয়ে নিকিতা বলল যে আমি নিজেই খানিকটা অবাক হয়ে গেলাম । সাথে সাথেই আমার মন থেকে দুষ্চিন্তা সব দুর হয়ে গেল । মনে হল যে এই মেয়ে যত সময় আমার সাথে আছে তত সময় আমার কোন ভয় নেই । আমি ভেবেছিলাম হৃদি এতে চুপ হয়ে যাবে । কিন্তু দেখলাম হৃদি থামলো না । নিজেকে সে সামলে নিয়েছে । তারপর বলল, কাজটা তো আপনিও করতে পারেন !


নিকিতা বাড়ির ভেতরের দিকে যাচ্ছিলো । থেমে গেল । আমিও থেমে গেলাম ।


নিকিতা বলল, কি বললে তুমি ?


-আপনি ঠিকই শুনেছেন ? আপনি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট চালান ! কোন কিছু আপনার চোখ এড়িয়ে যায় না তাই না ?


নিকিতা কিছু সময় চুপ করে রইলো । তারপর বলল, ঠিক আমার চোখ এড়িয়ে কিছু যায় না । তুমি কোথায় কাজ কর কি কাজ কর সে সব আমার চোখ এড়িয়ে যায় না । তোমার প্রতি আমি একবার একটা অন্যায় আচরন করেছিলাম বলেই আমি সেসব দেখেও না দেখার ভান করি । কিন্তু সেই অপরাধবোধ আমার খুব বেশি দিন থাকবে না ।


-ম্যাম আপনি আমাকে আর সেই নিরিহ মেয়ে ভাববেন না দয়া করে । কারো চোখ রাঙানী আমি ভয় পাই না !


দুজন দুইজনের দিকে এক ভাবে তাকিয়ে রইলো কিছু সময় !


আমি পড়লাম বিপদে । এই দুই মেয়ে যে এভাবে পরস্পর বিরোধী আচরন শুরু করবে সেটা আমি ভাবতেও পারি নি । হৃদি বলল, পলেটিশিয়ানরা নিজেদের রেপুটেশন আর ভোটের জন্য যে কোন কিছু করত পারে । কে জানে এই সব আপনার করা কাজ কি না ! আগের মতই !


নিকিতার চোখ আমি জ্বলে উঠতে দেখলাম । বুঝতেই পারছিলাম যে এখনই একটা ফাইট শুরু হয়ে যাবে । আমি সামনে এসে বললাম,


-আচ্ছা এসব কথা পরে ভাবলেও চলবে । আগের টা আগে । বাইরে দাড়িয়ে থাকলে যে কারো চোখে পড়ে যাবে । প্লিজ ...


দুজনেই কিছু সময় নিশ্চল হয়ে তাকিয়ে রইলো । তারপর নিকিতা সামনে হাটা শুরু করলো । আমি হৃদির দিকে নিকিতার পেছন পেছন হাটা শুরু করলাম । দেখলাম হৃদিও আসছে একটু পরে । ওর মুখ খানিকটা অন্ধকার হয়ে আছে । নিকিতাকে সে এখানে আশা করে নি মোটেই ।


দিনের বাকিটা সময় কেউ কারো সাথে কোন কথা বলল না । নিকিতাকে বেশ চিন্তিত মনে হল । ও কিছু একটা নিয়ে ভাবছে । হৃদিও একই ভাবে নিশ্চপ ভাবে কিছু একটা ভাবছে যেন । রাতে খাওয়ার সময় নিকিতা হৃদিকে বলল, এখানে ল্যাপটপ পাওয়া যাবে ?


হৃদি বলল, হ্যা যাবে । কেন ?


-ও যেই হোটেলে ছিল সেটার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে । ভাল কিছু আছে সেখানে !


আমি বললাম, রিয়্যালি ?


-নীতু তো তাই বলল । ও আমাকে পাঠিয়েছে । এখন একটা ল্যাপটপ পেলে ওটা এখনই পরীক্ষা করা যেত !


হৃদি একটা ল্যাপটপ নিয়ে এসে দিল । ল্যাপটপে কিছু টেপাটেপি করতে করতে নিকিতা বলল, এখনও পর্যন্ত যে যে জিনিস পুলিশের হাতে এসেছে সেটা দিয়েও তোমাকে নির্দোষ প্রমান করতে পারবো আশা করি । সব চেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে নওরিনের অটোপসি রিপোর্ট। ওখান থেকে জানা যায় যে মরার আগে নওরিন কারো সাথে মিলিত হয়েছিলো । স্বাভাবিক ভাবেই সবাই ধরে নিয়েছে যে অপুর সাথেই সে কাজটা করেছে । রিসোর্ট থেকে কিছুটা দুরে পুলিশ একটা ব্যবহৃত কন্ডম পেয়েছে । সেখান থেকেই ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া গেছে । পুলিশ ভেবেছেছে যে এটা একটা শক্ত প্রমান হবে । সেই রিপোর্ট আমার কাছে এসেছে । পুলিশের কাছে অপুর ডিএনএ স্যাম্পল নেই কিন্তু আমার কাছে আছে ।


হৃদি বলল, তারপর?


নিকিতা বলল, ওটা অপুর সাথে মেলে না । তার মানে নওরিনকে মেরে ফেলার আগে খুনি নওরিনের সাথে সেক্স করেছে এবং সেই খুনি অপু নয় ! এটা ডিএনএ পরীক্ষা না করেও আমি জানতাম !


হৃদি বলল, তাহলে এমন লুকিয়ে থাকার কি মানে ? সরাসরি পুলিশের কাছে গেলেই তো হয় !


নিকিতা বলল সমস্যা এখানেই । জায়েদ আমাদের পেছনে লেগেছে । আর পরিস্থিতি এমন যে এখানে আমি সামনে আসতেই পারবো না । প্রাইম মিনিস্টার থেকে আমাকে পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে যেন আমি পনের দিনের আগে দেশে না আসি । জায়েদের কাছে সব কিছু রয়েছে আপাতত । ও নিজেও এতো সময়ে জেনে গেছে যে প্রমান পাওয়া গেছে তাতে অপু ঠিকই বেঁচে যাবে । এটাই ও হতে দিবে না । এখন যদি ও ধরা দেয় তাহলে ওকে আবারও ক্রস ফায়ারে দিয়ে দিবে হয়তো লাশই গুম করে ফেলবে । ও সব সময় আমাকে আঘাত করার সুযোগ ও ছাড়বেই না ।


হৃদি বলল, আবারও সেই রেপুটেশন ! আপনার কাছে অপুর থেকে আপনার ক্যারিয়ার বড় ! আজব !


নিকিতা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি বললাম, এখন আবার শুরু হয়ে যেও না । প্লিজ !


তারপর নিকিতার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি জানতে পেরেছো ?


নিকিতার চোখ তখনও ল্যাপটপের দিকে । ও কি যেন করছে । তারপর আমাদের দিকে চোখ তুলে বলল, এখন জায়েদ কাছে সব কিছু থাকলেও আমার বিশ্বস্ত কিছু মানুষ আছেই । তারা আমার প্রতি অনুগত ।


কিছু সময় চুপ করে থেকে নিকিতা বলল, যেদিন অপু ঐ রিসোর্টে গিয়েছিলো সেদিন মোট ৬ জন মানুষ চেক ইন করেছিল । তার ভেতরে একটা ছিল কাপল । স্বামী স্ত্রী । আর অপু ছাড়া বাকি তিন গেস্ট । আর কেউ এন্ট্রি নেয় নি ।


আমি বললাম, তাহলে নওরিন কোথা থেকে এল ?


-এটাই হচ্ছে প্রশ্ন ? নওরিন এন্ট্রি নেয় নি । তাহলে তার লাশ কিভাবে এল ?


আমি বললাম, তাহলে কি ওকে অন্য কোথায় খুন তারপর এখানে আনা হয়েছে ।


-না সেটাও সম্ভব না । অটোপসী অনুযায়ী ওকে খুন করা হয়েছে রাত একটা থেকে তিনটার ভেতরে । সকল দুইজন গেস্ট আরও দুই দিন থেকে ওখানে ছিল । কাপল টা এসেছে একদিন আগে । অন্য এসেছে ঐদিন সকাল বেলা । এবং কারও কাছেই এতো বড় ব্যাগ ছিল না । তাহলে ?


তাই তো ?


তাহলে নওরিন কিভাবে এল ?


খুন যদি রাত একটার থেকে তিনটার ভেতরে হয় তাহলে নওরিন রিসোর্টের ভেতরেই ছিল ।


এক মাত্র উপায় হচ্ছে কাপলটার মেয়েটাই হচ্ছে নওরিন । নওরিন কেন এল এভাবে ?


আমি বললাম কি তাহলে ঐ কাপলের মেয়েটাই নওরিন ছিল ?


নিকিতা বলল, আমিও তাই ভেবেছিলাম কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ঐদিন ঐ কাপল চেক আউট করেছে !


-দুইজন এক সাথে ?


-হ্যা । একজন যদি নওরিন হত তাহলে তার সেখানে থাকার কথা ছিল না । তাই না ?


তাও ঠিক ।


নিকিতা বলল সিসিটিভি ডাউনলোড হয়ে গেছে । আমার দিকে ল্যাপটপের স্ক্রিনটা খানিকটা সরিয়ে দিল । হৃদিও আমার পেছনে এসে দাড়ালো । ফুটেজ চালু হল !


দেখলাম ফুটেজ খুব বেশি নেই অংশ কাভার করে নি । কেবল এন্ট্রি আর করিডোরের অংশটা ! আর ফুটেজও খুব বেশি ক্লিয়ার না ! কেবল থাকতে হয় তাই রয়েছে ।


ঘটনাটার দিনের ফুটেজ চালু হল । করিডোরের ফুটেজ দেখতে শুরু করলাম । আমাকে দেখা গেল করিডোর দিয়ে রাত বারটার দিকে ঢুকতে । দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লাম । তারপর আরও একজন এল । সোজা চলে গেল । তারপর অনেকটা সময় কিছু হল না । তারপর ঠিক দুইটার দিকে হঠাৎ স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে গেল । তাকিয়ে দেখলাম ঠিকই ভিডিও চলছে । তার মানে কেবল করিডোরের আলো অফ হয়ে গেছে । ঠিক পনের মিনিট পরে আবারও আলো ফিরে এল । আবারও সব আগের মতই ! তারপর আর কিছু হয় নি । কেউ বের হল না । একবার একজন স্টাফকে দেখা গেল করিডোর দিয়ে হেটে যেতে ।


সকাল বেলা তারপর আমাকে বের হয়ে যেতে দেখা গেল ।


নিকিতা এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ঐ পনেরো মিনিটের ভেতরেই যা হওয়ার হয়েছে । এটা খুব সহজেই প্রমান করা যাবে যে তুমি কিছু করি নি । তোমার রুমে যখন তুমি ঢুকেছো তখন একাই ছিলে ।


হৃদি বলল, এখন তাহলে এই কটা দিন তোমাকে লুকিয়ে থাকতে হবে । কোন ভাবেই জায়েদ আমানের হাতে পরা যাবে না !


নিকিতাকে খানিকটা চিন্তিত মনে হল । সে বলল, আমাদের ঐ সেফ হাউজের কথাটা জায়েদ ....


নিকিতার চোখে তখনও স্ক্রিনের দিকে । কথা বলতে বলতে থেমে গেল ও । আমি বলল, কি হল ?


নিকিতা কোন কথা বলল না । আরেকবার তাকালো স্ক্রিনের দিকে । আমি ওর পেছনে গিয়ে দাড়ালাম । গিয়ে দেখি ও একটা দৃশ্য পজ করেছে । লোকটাকে কেমন চেনা চেনা মনে হচ্ছে !


আরে এই লোকটাই তো আমাকে লিফট দিয়েছিল !


আমি বললাম, তুমি চেন নাকি ওকে ?


-একে আমি সেফ হাউজে ডেকেছিলাম তোমার গুলি বের করতে !


-কি ! ইনি ডাক্তার ?


-হ্যা ! আমি যখন প্রথম বিসিএসে জয়েন করি আমার জেলাতেই পোস্টিং ছিল তার ! আমাদের মধ্যে বেশ ভাব হয়েছিল তখন ! সেই যোগাযোগ এখনও আছে ! আবিদ ওখানে কি করছে ?


কিছু যেন ভাবলো ও ! তারপর নিজের ফোন বের হয়ে একটা না্ম্বারে ডায়েল করলো !


-হ্যা শুনতে গেস্টদের নাম গুলো কি কি বললে ?


কিছু সময় নিরবতা !


নিকিতা আবার বলল, কাপল দের নাম ?


আবার নিরবতা !


-নিশ্চিত তুমি ?


-আচ্ছা !


ফোন রাখার পরে নিকিতা আমার দিকে তাকালো ! তারপর বলল, আবিদ রায়হান নামে কেউ সেদিন সেখানে এ্ট্রি নেয় নি । তার মানে আবিদও তোমার মত কোন ফেইক নামে ওখানে এন্ট্রি নিয়েছিলো ।


আমি বলল, এমন তো হতেই পারে । উনি একজন রেপুটেড ডাক্তার ! হয়তো এই কারনেই আসল পরিচয় দিতে চান নি ।


নিকিতা বলল, সে এখনও বিয়ে করে নি । তাহলে বউ আসলো কোথা থেকে ?


আমি খানিকটা চোখ বড় বড় করে তাকালাম । নিকিতা আামকে ভিডিওটার একটু টেনে দেখালে । এন্ট্রিতে তাকেই দেখা যাচ্ছে একটা মেয়ের সাথে । এবং মেয়েটা বোরকা পরা !


নিকিতা বলল, আবিদ ! আমার কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছে ? ও এই কাজটা কেন করবে ? ওর ওখানে থাকাটা আমার কেন জানি কাকতালীয় মনে হচ্ছে না। নো হতেই পারে না !


আমি বললাম, কিন্তু তুমি না বললে যে কাপল চেক আউট করেছে । তাহলে ...


নিকিতা কিছু ভিডিও টেনে টেনে দেখলো । তারপর ভিডিও দুইটা স্ক্রিন শট ছিল । একটা যখন আবিদ রায়হান তার বউসহ রিসোর্টে ঢুকছে অন্য যখন সে বের হচ্ছে । দুটো ছবি পাশাপাশি রেখে বলল,


-দেখো !


আমি ছবি দুটো দেখার চেষ্টা করলাম । দুটো ছবিতেই দেখা যাচ্ছে আবিদের সাথে একজন বোরকা পরা মেয়ে ! তখনই আমার চোখে পড়লো ব্যাপারটা ! এন্ট্রির ছবিটার মেয়েটা আবিদের সমান ! কিন্তু চেক আউটের সময় যে মেয়েটা ওর সাথে রয়েছে সে একটু খাটো ! নাক পর্যন্ত !


ও মাই গড ! দুইজন দুই মেয়ে !


নিকিতা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, এইবার সব কিছু পরিস্কার ভাবে বুঝা যাচ্ছে । আবিদ নাওরিনকে নিয়ে রিসোর্টে ঢুকেছিলো । বউ সাজিয়ে । রাতে ওর সাথে ছিল । কিন্তু হয়তো একটা পর্যায়ে নওরিনকে দেখে নিজেকে সামলাতে পারে নি । ওর সাথে মিলিত হয়েছে । তারপর তাকে মেরে ফেলেছে । লাশটা ঐ অন্ধকারের ভেতরেই অপুর ঘরে দিয়ে এসেছে । মাস্টার কি কিংবা হোটেলের কারো সাহায্য আরেকটা চাবি ম্যানেজ করে নিয়েছে ।


এই টুকু বলে নিকিতা থামলো । তারপর আমি বললাম এরপর ভোর বেলা হাটতে বের হয়েছে । কারো দেখার আগেই । এবং একটা সময় ফিরে এসেছে নতুন আরেকটা মেয়েকে নিয়ে । সকাল তখন যারাই ওকে দেখেছে ভেবেছে যে বউয়ের সাথেই হাটতে বেরিয়েছিলো ।


নিকিতা বলল, আমি নিশ্চিত ডিএনএ আবিদের সাথে মিলে যাবে । কিন্তু এই কাজটা ও কেন করলো ? তোমাকে ফাঁসিে ওর কি লাভ ? তোমার শরীর থেকে গুলিটাও ও নিজের বের ক....


আবারও থেমে গেল ও । মুখটা চিন্তিত দেখালো । তারপর বলল, যখন আমরা ওর জেলাতে ছিলাম তখন ওর ভাব ভঙ্গি দেখে আমার মনে হত যে ও আমাকে পছন্দ করে ! কিন্তু কোন দিন ও কিছু বলে নি ! সেফ হাউজের কথা কেবল ও জানতো । তাহলে কি ঐ বলেছে !


আমি আরও কিছু বলতে যাবো তখন আমাদের সামনের জানলাটার কাঁচ ভেঙ্গে পড়লো ।


কেউ গুলি করেছে !


আমরা তিনজনেই মাথা নিচু করে বসে পড়লাম !


জায়েদ আমান কি এখানেও পৌছে গেছে ?


এখন ?

|

|

চলবে....

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url